একইসাথে আয়কর আইনজীবী ও অ্যাডভোকেটশিপে সাফল্য, নজির গড়লেন পিরোজপুরের রাফিউল আলম রাফি
বৃহস্পতিবার , ১৯ মার্চ, ২০২৬ ৮:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পিরোজপুরের তরুণ আইনবিদ মো: রাফিউল আলম রাফি একযোগে আয়কর আইনজীবী (ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার–আইটিপি) এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিরল সাফল্য অর্জন করেছেন। তার এই অর্জন আইন পেশায় নবীনদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের বাসিন্দা রাফি পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন এবং উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই আইন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে নিয়মিত অধ্যবসায় চালিয়ে যান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি উপলব্ধি করেন যে, আইন পেশার গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় একটি শাখা হচ্ছে আয়কর আইন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিয়মিত অধ্যয়ন, গবেষণা এবং অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন।
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত আয়কর আইনজীবী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ২০২৫ সালে প্রকাশিত ফলাফলে তিনি উত্তীর্ণ হন। এর মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে আয়কর সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পান তিনি।
এরপর ২০২৫ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডভোকেটশিপ এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ প্রকাশিত ফলাফলে সফলভাবে উত্তীর্ণ হন। ফলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাডভোকেট হিসেবে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ লাভ করেন।
আয়কর আইন পেশা সম্পর্কে রাফি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র। এ খাতে কাজের মাধ্যমে যেমন ব্যক্তিগত পেশাগত উন্নয়ন সম্ভব, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যায়।
তিনি জানান, এই সাফল্যের পথে তাকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। আয়কর আইনজীবী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সিলেবাস সাধারণ আইন শিক্ষার তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাকাউন্টিং ও ট্যাক্সেশন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করাও ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
নিজের অর্জন প্রসঙ্গে রাফি বলেন, “আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পেরে আমি আনন্দিত। পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা আমাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতে আইন পেশার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চাই।”
২১০ বার পড়া হয়েছে
