বাবাকে নিয়ে মাসুদ সাঈদীর আবেগঘন বার্তা!
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতির ইতিহাসে এক কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, তার পিতা ইসলামী বক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় ‘ন্যায়বিচার বহির্ভূত’ ছিল।স্ট্যাটাসে মাসুদ সাঈদী আরও উল্লেখ করেন, ওই রায়ের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বহু মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। তিনি নিহতদের জন্য দোয়া করেন এবং তাদের ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়াও, তিনি তার স্ট্যাটাসে তৎকালীন সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাসুদ সাঈদী লিখেন, আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি। জাতির ইতিহাসে ‘২৮ ফেব্রুয়ারি’ এক কালো দিন, কলংকিত দিন। ২০১৩ সালের আজকের এই দিনে কথিত ‘আন্তর্জাতিক’ অপরাধ ট্রাইবুনাল শতাব্দীর নিকৃষ্ট সব মিথ্যা অভিযোগের মিথ্যা মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এক ন্যয়ভ্রষ্ট রায়ের মাধ্যমে বিশ্বের অগণন মানুষের হৃদয় স্পন্দন, কোরআনের খাদেম আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল।
তিনি লিখেন, দেশবাসী জানত আল্লামা সাঈদী নির্দোষ, নিরপরাধ। তাই শুরু থেকেই তারা আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ মামলা বিশ্বাস করেনি। এরপরও যখন মিথ্যা মামলায় আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছিল তখন সচেতন জনতা কেউ ঘরে বসে থাকেনি। প্রতিবাদী কোরআন প্রেমিক লাখ কোটি নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে এলে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত সরকারের লাঠিয়াল পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সারাদেশে ২৩৫ জনকে হত্যা করে। গ্রেপ্তার করে হাজার নারী-পুরুষ।
তিনি আরও লিখেন, একজন ব্যক্তির ভালবাসায় এতো মানুষের জীবন দান পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস থেকেই নজিরবিহীন। জনতা সেদিন প্রমাণ করে দিয়েছিল, ‘যুদ্ধাপরাধ নয়, কোরআনের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌছে দেয়াই আল্লামা সাঈদীর অপরাধ’।
যেসব ভাই-বোনেরা কোরআনের খাদেম আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ভালবাসায় জীবন দিয়েছেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলা আমিন তাদের সবাইকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন, তাদের সকল ভুল ত্রুটি ‘রহমান-রহিম’ নামের উছিলায় মাফ করে দিন আর তাদেরকে জান্নাতের মেহমান বানিয়ে নিন।
মাসুদ সাঈদী স্ট্যাটাসে আরও বলেন, কোরআনের পাখিকে দুনিয়ার জীবনে আমরা আর ফিরে পাইনি। ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ আর তাদের দোসরেরা পরিকল্পিতভাবে আল্লামা সাঈদীকে হত্যা করেছে। কোরআনের পাখির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে জালিমেরা তাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার দয়ায় জালিমেরা আল্লামা সাঈদীকে জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি বরং বিশ্বব্যাপী তার জনপ্রিয়তা বহুগুণ বেড়ে, তার প্রতি মানুষের আবেগ ভালবাসা হাজার গুণ বেড়ে গেছে।
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি বলেন, ইয়া রব! কোরআনের পাখি শহীদ আল্লামা সাঈদীকে তুমি জান্নাতের সবুজ পাখি হিসেবে দয়া করে কবুল করে নাও। শহীদের রক্তে রঞ্জিত এ বাংলাদেশকে তুমি ইসলামের জন্য কবুল করে নাও।
মাসুদ সাঈদীর এই স্ট্যাটাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ সেই রায় পরিবর্তন করে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করে।
১০৪ বার পড়া হয়েছে
