সর্বশেষ

জাতীয়১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘জনগণের দিন’, তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনী পোস্টার ছাপানো বন্ধে ছাপাখানাগুলোকে নির্দেশনা ইসির
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ালো
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেব : জামায়াত আমির
টাইম ম্যাগাজিনকে সাক্ষাৎকার: কোনো দল নিষিদ্ধের পক্ষে নন তারেক রহমান
১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে আজ
স্বর্ণের দামে রেকর্ড, ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার
সারাদেশবেনাপোল বন্দর: এক দিনে ১৫১৩ জন পাসপোর্টধারী পারাপার, ৩৫০ ট্রাক বাণিজ্য
শৈলকুপায় জমি বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০
ফেনীতে মুক্তিপণ না পেয়ে স্কুলছাত্র নাশিত হত্যা: ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড
দীর্ঘ বিরতির পর সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি পুনরায় শুরু
গোপালগঞ্জে জেলা ও দায়রা জজের বাসভবনে ককটেল হামলা
২০ বছর পর নওগাঁয় আসছেন তারেক রহমান, ব্যাপক প্রস্তুতি
কুয়াকাটায় ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও পুনর্বাসনের ঘোষণা বিএনপি প্রার্থীর
চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু
গাইবান্ধায় গণভোট উপলক্ষে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত
শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার বিতরণ মঞ্চে সংঘর্ষ, জামায়াত নেতা নিহত
আন্তর্জাতিকইরানমুখী আরও মার্কিন নৌবহর, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
খেলাভারত ছাড়াই ২০২৭ সালে পাকিস্তানে দক্ষিণ এশিয়ান গেমস আয়োজনের সিদ্ধান্ত
মতামত

‘বিশ্বে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত’ বাংলাদেশ: এক বছরের ধস নয়, জমে থাকা সংকটের প্রতিচ্ছবি

মনজুর এহসান চৌধুরী
মনজুর এহসান চৌধুরী

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:৫২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ২০০১ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতিবিষয়ক সূচক Corruption Perceptions Index (CPI)–তে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সেই সূচকে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হয়।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফল কোনো এক বছরের হঠাৎ অবনতির প্রতিফলন নয়; বরং ২০০০ সালসহ তার আগের কয়েক বছরের শাসনব্যবস্থা, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার জমা হওয়া প্রভাবই ওই সূচকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভেসে ওঠে।

সূচকের পদ্ধতি: আগের বছরের দুর্নীতির প্রতিচ্ছবি

CPI–এর কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি বছরের সূচক বানানো হয় মূলত আগের বছরের ওপর পরিচালিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশি জরিপের ধারণা ও উপাত্তের ভিত্তিতে। ২০০১ সালের CPI–তে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ০.৪ (০–১০ স্কেলে), যা বাংলাদেশকে তালিকার একেবারে তলানিতে নিয়ে যায়, কিন্তু এই স্কোরটি বাস্তবে ২০০০ সালের প্রশাসনিক বাস্তবতা ও দুর্নীতির ধারণাকেই প্রতিফলিত করেছিল। অর্থাৎ, “২০০১ সালে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন”—এই রাজনৈতিক স্লোগান আসলে ২০০০ সাল পর্যন্ত গড়ে ওঠা দুর্নীতির চিত্রকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনাকেই বোঝায়।

দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা

গবেষণায় দেখা যায়, সামরিক শাসনকাল থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশকের গণতান্ত্রিক পর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি, ক্লায়েন্টেলিজম এবং দলীয়করণ ক্রমান্বয়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। নিয়োগ–বদলি, টেন্ডার, সরকারি প্রকল্প, ব্যাংকঋণ থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুগত্যকে যোগ্যতার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়, যা দুর্নীতিকে “নিয়ম”–এ পরিণত করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতি দমনকারী প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর উপর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে থাকায় জবাবদিহি দুর্বল হয় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধের সুযোগ ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ে।

নব্বইয়ের দশকে সংকটের ঘনীভবন

বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারের বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও দুর্বল সুশাসন ও সর্বব্যাপী দুর্নীতি সেই অর্জনের গুণগত দিককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা মূলত দলীয় স্বার্থ ও পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর হয়ে ওঠে; নির্বাচনকে ঘিরে অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাত, প্রশাসনে দলীয়করণ এবং ব্যবসা–রাজনীতির অস্বচ্ছ আঁতাত প্রশাসনিক স্বচ্ছতা হ্রাস করে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় জনগণের চোখে দুর্নীতি “ব্যতিক্রম” নয়, বরং নিত্যদিনের অভিজ্ঞতায় পরিণত হয় এবং ঠিক সেই বাস্তবতাই আন্তর্জাতিক জরিপগুলোতে প্রতিফলিত হতে শুরু করে।

২০০১: রাজনৈতিক স্লোগান বনাম সূচকের বাস্তব অর্থ

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের CPI–তে ২০০১ সালে বাংলাদেশের “বিশ্বে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ” হিসেবে উঠে আসা দেশের ভেতরে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক ও দোষারোপ–সংস্কৃতির জন্ম দেয়। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত বিশ্লেষণগুলোতে বলা হচ্ছে, এই সূচকের ফলকে দলীয় রাজনীতিতে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবহেলিত থেকেছে—সি পি আই ২০০১ মূলত আগের বছরের অর্থাৎ ২০০০ সালের বাস্তবতা ধরে বানানো; নতুন সরকার যে ২০০১-এর শেষে ক্ষমতায় আসে, তার পারফরম্যান্স এই সূচকে প্রতিফলিতই হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, “চ্যাম্পিয়ন অব করাপশন”–এর জনপ্রিয় রাজনৈতিক ভাষ্য ধীরে ধীরে এক ধরনের মিথ্যে ইতিহাসে রূপ নিয়েছে, যেখানে সূচকের পদ্ধতিগত বৈশিষ্ট্য এবং পূর্ববর্তী বছরের জমে থাকা সংকটের ভূমিকা ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হয়েছে।

শিক্ষণীয় দিক: সূচকের পেছনের রাজনীতি বুঝতে হবে

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, CPI–র মতো সূচককে শুধুই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে তার পদ্ধতি, সময়কাল ও তথ্যের উৎস বোঝা জরুরি, নইলে দায় চাপানো–কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বে প্রকৃত সংস্কার আলোচনার বাইরে চলে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা দুর্নীতির কাঠামো ভাঙতে হলে কেবল সরকারের পরিবর্তন নয়, বরং দলীয় পৃষ্ঠপোষকতাকে নিরুৎসাহিত করা, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিচারব্যবস্থার উপর রাজনৈতিক প্রভাব কমানো—এসব কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।

সুতরাং ২০০১ সালের CPI ফলাফলকে একক বছর কিংবা একক সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে নয়, বরং অন্তত এক দশকের বেশি সময় ধরে জমে থাকা দুর্নীতির সংস্কৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা উচিত—যা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ সংস্কারের পথ নির্ধারণ করা সম্ভব।


লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট।

১৯২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন