গ্যাসে অচল জনজীবন: এলপিজি দ্বিগুণ দামে অদৃশ্য, লাইনের গ্যাসেও সংকট
বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ৬:৩৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশজুড়ে গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বোতলজাত এলপিজি প্রায় দ্বিগুণ দামেও পাওয়া যাচ্ছে না, আর বাসাবাড়ির লাইনের গ্যাস দিনের বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকছে।
সরকার বলছে সংকট সাময়িক এবং মজুত পর্যাপ্ত, কিন্তু বাজারের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। আমদানি কম, এলসি সংকট, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের অনিয়ম-সব মিলিয়ে এলপিজি খাতে চরম অরাজকতা তৈরি হয়েছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট চলছে। ১ হাজার ৩০০ টাকার সিলিন্ডার কোথাও কোথাও বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। অনেক এলাকায় টাকা দিয়েও গ্যাস মিলছে না। দোকানগুলোতে খালি সিলিন্ডার সাজানো থাকলেও নতুন সরবরাহ নেই। এলপিজির বাজার কার্যত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
একই সঙ্গে পাইপলাইনে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাসেও সংকট বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় গ্যাসের চাপ খুবই কম। দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় আগুন জ্বলে না, আর থাকলেও তা এতই কম যে রান্না করতে লাগে কয়েক গুণ বেশি সময়। রাত গভীর থেকে ভোর পর্যন্ত কিছুটা চাপ বাড়লেও তখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকেন। ফলে অনেক পরিবার ইলেকট্রিক চুলা বা বাইরে থেকে খাবার কেনার দিকে ঝুঁকছেন।
পেট্রোবাংলার দাবি, এলএনজি টার্মিনাল কক্সবাজারের মহেশখালীতে হওয়ায় চট্টগ্রামে চাপ তুলনামূলক ভালো থাকছে, কিন্তু দূরত্বের কারণে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় চাপ কম পাচ্ছেন গ্রাহকরা। পাশাপাশি বর্তমানে সব সার কারখানা সচল থাকায় গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। গত পাঁচ বছরে গৃহস্থালি, শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় গ্যাসের ব্যবহার কমলেও আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে। বর্তমানে মোট চাহিদা যেখানে প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট, সেখানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৫শ থেকে ২ হাজার ৭শ মিলিয়ন ঘনফুট। ভবিষ্যতে এই ব্যবধান আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে এখনও বড় অংশের সরবরাহ আসলেও সেখানকার মজুত কমে গেলে দেশে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সুখবর না থাকায় দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই অবস্থায় পেট্রোবাংলা নতুন আরেকটি এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি চালু হলে এলএনজি সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলপিজি খাতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো না গেলে এ সংকট স্থায়ী রূপ নিতে পারে।
১৫৪ বার পড়া হয়েছে
