চরাঞ্চলে কম্বল ও গাছের চারা বিতরণ
যমুনার চরে শীতের দাপট, উষ্ণতার ছোঁয়া দিল মুনলাইট
সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:২২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রতিবছর বন্যা, দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই টিকে থাকতে হয় চরাঞ্চলের মানুষকে। তার ওপর শীত মৌসুম এলেই যেন দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। যমুনা নদীর তীরবর্তী চরগুলোতে হিমেল বাতাস আর কনকনে ঠান্ডা হয়ে ওঠে অসহায় মানুষের জন্য নতুন এক সংকট।
এমন পরিস্থিতিতে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চরবাটিয়া ও আশপাশের কয়েকটি চরের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক সংগঠন মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে চরাঞ্চলের শতাধিক পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে জীবিকা সহায়তার অংশ হিসেবে দেওয়া হয় সবজি বীজ ও প্রতিটি পরিবারকে একটি করে গাছের চারা।
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ এনজিও ব্যক্তিত্ব ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের চিফ কো-অর্ডিনেটর আবু হাসনাত সাঈদ, মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী সদস্য মঞ্জুরুল হক টুটু, পল্লী স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক শাহিন ইসলাম নয়ন, শিলদহ বাড়ির সমাজ উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক নাজমা খাতুন, মুনলাইটের কো-অর্ডিনেটর জনি ইসলাম ও নাসিদ আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন চরবাটিয়ার বৃদ্ধা রওশন আরা। তিনি বলেন, “নদীর ধারে শীতটা সহ্য করা খুব কঠিন। অনেক রাত না ঘুমিয়েই কাটে। আজ এই কম্বল পেয়ে মনে অনেক শান্তি লাগছে।”
দিনমজুর শফিকুল ইসলাম জানান, “শীতকালে কাজ কম থাকে। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এই সহায়তা আমাদের জন্য বড় ভরসা।”
একই দিনে গাবতলী উপজেলার শিলদহ বাড়ি ও হাতীবান্ধা গ্রামের প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝেও কম্বল বিতরণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করা মানুষগুলোর জন্য এই উদ্যোগ কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু শীত নিবারণ নয়—দীর্ঘমেয়াদে মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যেই বীজ ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
যমুনার হিমেল বাতাসে যখন চরজীবন কাঁপছে, তখন মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির এই মানবিক উদ্যোগ অসহায় মানুষের মনে জাগিয়েছে উষ্ণতার আশ্বাস।
১৯২ বার পড়া হয়েছে
