যান্ত্রিক ত্রুটিতে দুই দিন ধরে বন্ধ যমুনা সার কারখানার উৎপাদন
বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ৬:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে টানা দুই দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
কারখানার অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি রাত থেকে ইউরিয়া সার উৎপাদন স্থগিত রাখা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যমুনা সার কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) ফজলুল হক। তিনি জানান, অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক সমস্যার কারণে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। মেরামতের কাজ চলছে এবং দ্রুত উৎপাদন পুনরায় শুরুর চেষ্টা করা হচ্ছে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে দীর্ঘ সময় যমুনা সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। প্রায় ১৩ মাস ২৩ দিন বন্ধ থাকার পর গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সীমিত আকারে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি চুল্লিতে গ্যাস সংযোগ দিয়ে কারখানা চালু করা হলেও মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পুনরায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকার পর গত বছরের ২৪ নভেম্বর আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক ও কারিগরি সংস্কার শেষে গত ২৩ ডিসেম্বর পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। তবে প্রয়োজনীয় ৪২ থেকে ৪৫ পিএসআই গ্যাসচাপের পরিবর্তে মাত্র ৯ থেকে ১০ পিএসআই চাপ পাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা নেমে আসে প্রায় ৪৫ শতাংশে।
১৯৯০ সালে স্থাপিত যমুনা সার কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া। এ কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ১৯ জেলার প্রায় আড়াই হাজার সার ডিলারের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ করা হয়।
দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কারখানার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সার সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে উপ-প্রধান প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, “যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। দ্রুত মেরামত শেষ করে আবার উৎপাদনে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।”
৩৪৮ বার পড়া হয়েছে
