ডিজি এনএসআইকে নিয়ে কেন লেখা হচ্ছে?
রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
DG NSI—কে নিয়ে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ meticulously designed করা। ডিজি, এনএসআই’র পূর্বে পুলিশের IGP ও ডিএমপি কমিশনার তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, অথচ আর কাউকে নিয়ে কিছু লেখা হলো না; কিন্তু শুধু ডিজি এনএসআইকে নিয়ে কেন লেখা হচ্ছে?
তাছাড়া ডিজি, এনএসআই তো লুকিয়ে কিছু করেননি, বরং তিনি প্রকাশ্যেই প্রটোকল মেনে সেখানে গিয়েছিলেন। কারণ আগের দিন তাঁর অসুস্থতাজনিত কারণে জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারেননি, তাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই সামরিক রীতিনীতি মেনেই শোক প্রকাশ করতে গিয়েছিলেন (শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন সাবেক সেনাপ্রধান, তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেনা পরিবারের সদস্য—তাই সেনাবাহিনীর সকল সদস্যই সেখানে যাওয়ার এখতিয়ার রাখেন)। তাহলে তাঁকে নিয়েই কেন এই নেতিবাচক আলোচনা? Apply your common sense!
বর্তমান ডিজি এনএসআই একজন সৎ এবং pure professional। তাঁকে আমি ২৫ বছর ধরে চিনি এবং একজন মিলিটারি প্রশিক্ষক হিসেবে তাঁর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যে কয়জন মিলিটারি প্রশিক্ষককে আইডল মনে করা যায়, তাঁদের মধ্যে তিনি একজন অগ্রগামী অফিসার। এমন প্রফেশনালকে কারা বা কোন দেশ ভালো অবস্থানে দেখতে চাইবে না? কারা তাঁকে আলোচনায় এনে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইতে পারে—একটু চিন্তা করুন এবং উপলব্ধি করুন।
তাঁকে নিয়ে সর্বপ্রথম পোস্ট বা লেখা কে বা কারা দিয়েছে, তাও একটু ফ্যাক্ট চেকের মাধ্যমে বের করুন—তাহলেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।
তারপর আসি ২৭ লং কোর্স নিয়ে যে অপপ্রচার—তা স্পষ্টভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট। বর্তমান নিয়োগপ্রাপ্ত MSCA (Military Secretary to Chief Adviser) কোনো তদ্বির বা সুপারিশে এই দায়িত্ব পাননি। তাঁর সাথে যারা বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করেছেন, এমন অনেক অফিসারের কাছ থেকেই জানতে পেরেছি—এই লোকের দ্বারা কোনো তদ্বির বা সুপারিশ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি আগাগোড়া একজন সিরাতুল মুস্তাকিমের ওপর চলা মানুষ, যাকে আমরা সার্ভিস-টাইপ অফিসার বলেই জানতাম। তিনি সেনাবাহিনীর জন্যই তৈরি একজন মানুষ। তাঁর মধ্যে কেন ধান্দা-স্বার্থ-সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়ের কোনো গন্ধ কেউ টের পায়নি। আর হয়তো তাই সরকার তাঁকে উপযুক্ত মনে করে এই দায়িত্ব দিয়েছে।
তারপর আসি ডিজি বিজিবি প্রসঙ্গে—৫ই আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ বর্ডার সিকিউরিটি নিয়ে যা কিছু দেখিয়েছেন, তা গত ২০ বছরে কোনো ডিজি দেখাতে পারেননি।
তবে এজি মেজর জেনারেল হাকিমের বিষয়ে আমি কিছু জানি না, তাই এই বিষয়ে মন্তব্যও করতে চাই না।
প্রতিটি কোর্সের নিজস্ব গুণাবলি থাকে। কোনো কোর্সে মেধাবী অফিসারের সংখ্যা বেশি হতে পারে, আবার অন্য কোর্সে প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলার মান তুলনামূলকভাবে উচ্চমানের হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এমন অনেক কোর্স আছে, যেসব কোর্সে extraordinary মেধাবী অফিসারের সংখ্যা বেশি থাকতেই পারে, যে কারণে তারা অনেক বেশি competitive হয়ে থাকে। যেমন—আমাদের এক কোর্সে বোর্ড স্ট্যান্ডধারী অফিসার/ক্যাডেট ছিল অনেক বেশি। আবার আমাদের কোর্সে ভালো ফলধারীর সংখ্যা বেশি হলেও, অন্য অনেক কোর্সের প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলার মান আমাদের কোর্সের চেয়ে অনেক ভালো। উদাহরণ হিসেবে যদি বলি—৪০ বিএমএ, ৪৬ বিএমএ এবং ৪৮ বিএমএ’র মতো এমন অনেক কোর্স আছে, যাদের কোর্সের অফিসারের সংখ্যাও কম, ভালো ফলধারীর সংখ্যাও কম, তবে তুলনামূলকভাবে তাঁদের প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্ব আমাদের কোর্সসহ অনেক কোর্সের চেয়ে অনেক উঁচুমানের। তাই কখনো কোনো কোর্সকে খাটো করে দেখা যাবে না।
পরিশেষে বলব, সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক।
এই প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতি কারা চাইতে পারে—তা ভেবে আমাদেরই সচেতনভাবে লেখা ও বলা উচিত।
সব বিষয়ে, সব সময়, অহরহ ট্যাগ লাগিয়ে বা অপপ্রচারে মেতে না উঠে—ভেবে-চিন্তে, দায়িত্বশীলভাবে মতামত দেওয়া জরুরি।
লেখক : গবেষক ও বিশ্লেষক
(লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)
২৫০ বার পড়া হয়েছে
