এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ: ৩০ বছরের গৌরবময় পথচলা
রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে তিন দশকের সফল পথচলা উদযাপন করল এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি)। রোববার, ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য প্রফেসর ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক বলেন, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের প্রতীক। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বহু শিক্ষার্থী আজ দেশ ও দেশের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছেন। কেউ সেনাবাহিনীতে কর্নেল হয়েছেন, কেউ বড় উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন, আবার কেউ শিক্ষা, প্রশাসন ও গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ এই পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়কে নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, একের পর এক একাডেমিক প্রোগ্রাম বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও অবকাঠামো নিয়েও অযৌক্তিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কোনো লিখিত ব্যাখ্যা বা নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ও বেদনাদায়ক।
প্রফেসর ড. সাদেক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রিন্সিপালসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে প্যানেল দেওয়া হলেও দীর্ঘদিন তা কার্যকর করা হয়নি। কাউকে অযোগ্য বলা হয়নি, আবার যোগ্য বলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ‘রেড স্পট’ উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে সতর্ক করা হয়েছে, অথচ এর পেছনে কোনো যুক্তিসংগত কারণ জানানো হয়নি। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় অকারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা রাজনৈতিক বাস্তবতা যাই হোক না কেন, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ সবসময় শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখেই এগিয়ে গেছে। প্রতিকূলতার কাছে মাথা নত না করে এই প্রতিষ্ঠান বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পরিবর্তিত বাস্তবতায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। জুলাই ও আগস্টের পর বাংলাদেশ একটি নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছে, আর সেই অগ্রযাত্রায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশও সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয় আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অল্প কিছুদিন পরেই তিনি দেশের একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদের কাছ থেকে হাতে লেখা একটি চিঠি পেয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তাঁর শিক্ষা-প্রকল্পের প্রশংসা করে একই ধরনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে ততদিনে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গভাবে যাত্রা শুরু করে ফেলেছে। তাঁর মতে, এই ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়টির গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্বের একটি বড় প্রমাণ।
সকাল সোয়া ১০টায় অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও এইউবি পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। পরে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান।
এ বছর প্রথমবারের মতো ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি) ফাউন্ডার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। নিজ নিজ ক্ষেত্রে পেশাগত উৎকর্ষতা, নৈতিক নেতৃত্ব এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন- শিক্ষা নেতৃত্ব, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, সাংবাদিকতা ও মিডিয়া নেতৃত্বে অবদানের জন্য দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, শিক্ষা নেতৃত্ব ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলন, বাংলা সাহিত্য ও একাডেমিক গবেষণায় অনন্য অবদানের জন্য বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, সামাজিক সেবায় অবদানের জন্য সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া, এবং সামাজিক সেবা ও প্যারেন্টিং শিক্ষায় অবদানের জন্য যুক্তরাজ্যের মুসলিম কমিউনিটির নেতা ও মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ড. মুহাম্মদ আবদুল বারী।
অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জামিরুল আক্তার, সিন্ডিকেট সদস্য এস এম ইয়াসিন আলী, ট্রেজারার সাঈদা আক্তার, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ সোবহানী, হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইউসুফ সিদ্দিকী, প্রাক্তন ছাত্র কারিমুল আরাফাত এবং ওমান প্রবাসী মো. ইসমাইল।
অনুষ্ঠানে কবিতা ও গানে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কবিতা আবৃত্তি করেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক সিনথিয়া জাহান বিথুন, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুক্তাসা ডিনা চৌধুরী এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাজুল ইসলাম।
সবশেষে সভাপতির বক্তব্য দেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য এমেরিটাস প্রফেসর ড. শাহজাহান খান। আনন্দঘন পরিবেশে কেক কাটা, ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় ও মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
৯১৮ বার পড়া হয়েছে
