সরিষার হলুদে ঢাকা ঝিনাইদহের মাঠ, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ
সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মিয়াকুন্ডু গ্রামসহ জেলার ছয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন চোখ জুড়ানো হলুদ দৃশ্য। যতদূর দৃষ্টি যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। ফুলের সুবাস আর মৌমাছির গুঞ্জনে গ্রামাঞ্চলের প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজেছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলার ছয় উপজেলায় ১৩ হাজার ২৩৯ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ২৩৫ মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়া ও সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
সদর উপজেলার মিয়াকুন্ডু গ্রামের কৃষক আনু মন্ডল বলেন, এবছর ঝড়-বৃষ্টি না হওয়ায় সরিষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
একই গ্রামের আরেক কৃষক মশিয়ার রহমান জানান, সামনে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ৪৬ শতকের এক বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১১ মণ পর্যন্ত সরিষা পাওয়া যাবে বলে তারা আশাবাদী।
কৃষক বসির মিয়া বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বীজ ও সার পাওয়ায় সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেশি হওয়ায় এবার নিজের জমির উৎপাদিত সরিষার তেল দিয়েই পরিবারের চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তিনি আরও জানান, চাষাবাদে কোনো সমস্যায় পড়লে নিয়মিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিচ্ছেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুর-এ-নবী বলেন, ভোজ্য তেলে আমদানি নির্ভরতা কমানো, জমির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং শস্য নিবিড়তা বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষকদের সরিষা চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পর্যাপ্ত বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি মধু উৎপাদনেও ভূমিকা রাখছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলে এ বছর ঝিনাইদহে সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে।
১৫৬ বার পড়া হয়েছে
