কাজিপুরে ঘোড়ার মাংস পাচারকালে আটক ২, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা
শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৩:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় গোপনে জবাই করা ঘোড়ার মাংস গাজীপুরে পাচারের সময় জনতার সহায়তায় দুইজনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন।
এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জব্দকৃত মাংস মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে) সকালে কাজিপুর উপজেলা সদরের মেঘাই ২ নম্বর স্পার বাঁধ এলাকায় পার্শ্ববর্তী যমুনা নদীর চরে জবাই করা ঘোড়ার মাংস একটি পিকআপ ভ্যানে তোলার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে আটক করে। পরে তারা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালতে ঘোড়ার মাংস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বগুড়ার গাবতলী থানার বাগবাড়ি গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে জাইদুল ইসলামকে ১৫ হাজার টাকা এবং মাংস পরিবহনের দায়ে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী পেয়ারাবাগানের মৃত আবু মিয়ার ছেলে পিকআপ চালক মো. তারেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় আরেক অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম কৌশলে পালিয়ে যায়।
আটককৃতরা আদালতে স্বীকার করেন, রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে কয়েক দিন আগে ১০টি ঘোড়া কিনে কাজিপুরের যমুনার দুর্গম চরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে শুক্রবার ভোররাতে ৫টি ঘোড়া জবাই করে ৭ বস্তায় ভরে নৌকাযোগে মেঘাই স্পার বাঁধ ঘাটে আনা হয়। সেখান থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বিক্রির উদ্দেশ্যে পিকআপে তোলা হচ্ছিল। চালক তারেক আরও জানান, এর আগেও তিনি একইভাবে ঘোড়ার মাংস পরিবহন করেছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশে জব্দকৃত নিষিদ্ধ ঘোড়ার মাংস মাটি খুঁড়ে পুঁতে ফেলা হয়। অভিযানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দিদারুল আহসান ও থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ২৪(১) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের জরিমানা করা হয়েছে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় মাংস ধ্বংস করা হয়েছে।
২০০ বার পড়া হয়েছে
