যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: বেইজিং
শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৫:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারত ও চীনের মধ্যে চলমান সম্পর্ক উন্নয়ন ও সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে- এমন অভিযোগ করেছে চীন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান। তিনি বলেন, চীন-ভারত সীমান্ত ইস্যু সম্পূর্ণভাবে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে কোনো তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ বা মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
লিন জিয়ান স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সীমান্ত প্রশ্নকে কেন্দ্র করে কোনো দেশ যদি নিজস্ব ব্যাখ্যা বা মূল্যায়ন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে চীন তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চীন নাকি ভারতের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেইজিংয়ের উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পথে বাধা সৃষ্টি করা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ওয়াশিংটনের প্রভাব হ্রাস করা।
পেন্টাগনের এমন পর্যবেক্ষণকে ‘ভিত্তিহীন, অনুমাননির্ভর ও উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারত ও চীনের সম্পর্ক কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং তা দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
লিন জিয়ান বলেন, “চীন ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও স্থিতিশীল সম্পর্ককে কৌশলগত গুরুত্ব দিয়ে দেখে। এটি কোনো সাময়িক রাজনৈতিক সুবিধার বিষয় নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।”
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ইঙ্গিত করে বলেন, বেইজিং ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা মূলত ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখার কৌশল।
উল্লেখ্য, বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও চীনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিলেও, উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার মাধ্যমে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। দুই দেশই সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে উদ্যোগ নিয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে পেন্টাগনের নেতিবাচক প্রতিবেদনকে চীন তাদের সার্বভৌম অধিকার ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রতি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। বেইজিংয়ের মতে, ভারত ও চীন নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে সক্ষম এবং তৃতীয় পক্ষের উসকানি সম্পর্ক উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
১৭৮ বার পড়া হয়েছে
