দুই মাসেও কমিশনার নিয়োগ হয়নি, ভোমরা কাস্টমস হাউসের কার্যক্রমে স্থবিরতা
বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউস হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কমিশনার নিয়োগ না হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো যাচ্ছে না এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
বন্দরসংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী ও ব্যবসায়ীরা জানান, চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে শত শত শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ভোমরা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে ভোমরা শুল্ক স্টেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকার পর গত ১৪ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এটিকে কাস্টমস হাউস হিসেবে উন্নীত করা হয়। একই সঙ্গে কমিশনারসহ নতুন কর্মকর্তার পদ সৃষ্টির ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে এখনো কোনো নিয়োগ কার্যকর হয়নি।
চাল আমদানি বন্ধ হওয়ার পর থেকে বন্দরে ট্রাক চলাচল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০টি পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করত, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০টিতে। কাজের অভাবে দিনমজুর শ্রমিকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মচারী চরম সংকটে পড়েছেন।
আমদানিকারক ও শ্রমিকরা দ্রুত কমিশনার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কমিশনার নিয়োগ হলে সব ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হবে এবং বন্দরের কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চালু হবে। এতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য আবারও গতিশীল হবে।
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবু হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছা বলেন, কাস্টমস হাউস ঘোষণার পর দ্রুত কমিশনার নিয়োগের প্রত্যাশা ছিল। কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে সব ধরনের পণ্য আমদানি শুরু হলে বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
তারা আরও জানান, ভোমরা দেশের অন্যতম ব্যস্ত স্থলবন্দর। কাস্টমস হাউসে উন্নীত হওয়ায় প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়বে, জনবল বৃদ্ধি পাবে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন হবে—যা ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি।
ভোমরা স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (এডি) আতিকুল ইসলাম জানান, কাস্টমস হাউস ঘোষণার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ আধুনিক ওয়্যারহাউস, ওপেন ইয়ার্ড এবং বাংলাদেশ ও ভারতের ট্রাক টার্মিনালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এসব কাজ সম্পন্ন হলে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে।
১৫৮ বার পড়া হয়েছে
