সর্বশেষ

জাতীয়১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘জনগণের দিন’, তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনী পোস্টার ছাপানো বন্ধে ছাপাখানাগুলোকে নির্দেশনা ইসির
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ালো
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেব : জামায়াত আমির
টাইম ম্যাগাজিনকে সাক্ষাৎকার: কোনো দল নিষিদ্ধের পক্ষে নন তারেক রহমান
১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে আজ
স্বর্ণের দামে রেকর্ড, ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার
সারাদেশবেনাপোল বন্দর: এক দিনে ১৫১৩ জন পাসপোর্টধারী পারাপার, ৩৫০ ট্রাক বাণিজ্য
শৈলকুপায় জমি বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০
ফেনীতে মুক্তিপণ না পেয়ে স্কুলছাত্র নাশিত হত্যা: ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড
দীর্ঘ বিরতির পর সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি পুনরায় শুরু
গোপালগঞ্জে জেলা ও দায়রা জজের বাসভবনে ককটেল হামলা
২০ বছর পর নওগাঁয় আসছেন তারেক রহমান, ব্যাপক প্রস্তুতি
কুয়াকাটায় ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও পুনর্বাসনের ঘোষণা বিএনপি প্রার্থীর
চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু
গাইবান্ধায় গণভোট উপলক্ষে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত
শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার বিতরণ মঞ্চে সংঘর্ষ, জামায়াত নেতা নিহত
আন্তর্জাতিকইরানমুখী আরও মার্কিন নৌবহর, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
খেলাভারত ছাড়াই ২০২৭ সালে পাকিস্তানে দক্ষিণ এশিয়ান গেমস আয়োজনের সিদ্ধান্ত
ফেবু লিখন

বরফের দেশ কানাডায় কয়েকদিন

আহসান নবাব
আহসান নবাব

বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৫:১০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
লসএঞ্জেলস টু টরেন্টো। দুটো অনিন্দ্য সুন্দর এয়ারপোর্টের গেটওয়ে দিয়ে, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ছোট ভাই সম্রাটকে দেখতে টরেন্টো আর ভাতিজা তমালকে দেখতে নোভা স্কোশিয়ার হ্যালিফ্যাক্স শহর ঘুরতে গিয়েছিলাম।

এই ডিসেম্বরের প্রথম দিকে যখন গেলাম তখন ভীষণ রকম শীতের তুষারপাত। রাস্তায়, জনপদে, পার্কে, সর্বত্র সাদা বরফের অবিরল স্তুপ, সারাটা সময়ই মাইনাস ১৪/১৫ তাপমাত্রায় চাঁদের দেশে যাওয়ার মতো ড্রেস পরে ঘোরাঘুরি করতে হয়েছে। কাহিল হয়ে পড়িনি, পৃথিবীর বহু দেশের এইরকম প্রতিকূলতার সাথে মিতালি হয়েছে আমার।

টরেন্টো শহরে আমার খালা থাকেন। মেরী খালা, রুবি খালা, জিনিয়া খালা। খালুরা থাকেন, কয়েকবার তাদের বাড়িতে গিয়েছি। সেকি সমাদর, সেকি ভালোবাসা! খালা-খালু-ভাইবোনদের ভালোবাসা পেয়ে আমরা দুই ভাই অভিভূত। সম্রাট তাদের সংস্পর্শে থাকবে—এটা আমাদের পুরো পরিবারের জন্য ভরসার। এখানে ছোট ভাই রাজার জানি বন্ধু দিনু আলম পরিবার নিয়ে থাকে। ওরা আমাদের জীবনযাত্রার অংশ।

সম্রাট ভাইয়ের স্নেহ নিয়ে মাথার ওপর ছাতা পেয়েছে। আমার ছোট কিন্তু বহু আগে থেকে পরম্পরায় ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সাংবাদিক সঞ্জয় চাকী এখানে আছে, সম্রাট আমার এবং তার পেশার সম্পর্ক নিয়ে বেশ মিলে-মিশে আছে। কানাডায় দেশের বহু প্রবীণ-নবীন সাংবাদিক আছেন, যারা এখানে স্থায়ী, সবার সাথে ওর হৃদ্যতা আছে। বিশেষ করে সুলতান আর ওর পরিবারের সাথে ওর সম্পর্কের নিবিড়তা দেখে আমি মুগ্ধ। আমার নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইঞ্জি. আনোয়ার আছে, সে আর ভাবী সমু-র পাশে আছে ভাইয়ের মতোই। আছে ছোটবেলার রাজবাড়ী শহরের ছোটবোন সম বেবী, ওর পরিবার—সবার স্নেহ-ভালোবাসা নিয়ে টরেন্টোতে সমু বেশ আছে। সবার বাসায়ই একাধিকবার দাওয়াত খেতে হয়েছে।

টরেন্টোর এগারো দিনই দুইবেলা দাওয়াত খেতে হয়েছে। এদের অনেকেই আমাকে শীতের অপূর্ব সুন্দর নায়াগ্রা দেখিয়েছে। কানাডা অংশ থেকে নায়াগ্রা না দেখলে চিরসুন্দরী, তন্বী, মোহময়ী, লাস্যময়ী নায়াগ্রাকে মিস করা হয়। এই শীতে সে তার সবটুকু জৌলুস উপচে দিয়েছে যেন! বিস্মিত নয়নে দেখা অপরূপা নায়াগ্রা মুগ্ধ করেছে আমাকে।

টরেন্টোর ডাউনটাউন, কানাডার রেলওয়ের প্রথম স্টেশন, রেলের ক্রমবিকাশের সকল ইঞ্জিন, রেল জাদুঘর, সুবিশাল অন্টারিও লেক আর বরফ আবৃত লেকের পাড় মুগ্ধ চোখে দেখলাম। সাবওয়ে ট্রেন, গো ট্রেন, নগরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সিটি বাসে চড়ে ওদের নাগরিক জীবনের স্বাদ নিয়ে নিলাম। টরেন্টোর বাঙালির আড্ডাপাড়া খ্যাত ড্যানফোর্থে গেলাম, লাইব্রেরিতে গেলাম, নানা মানের রেস্টুরেন্টে গেলাম, সুন্দর নিপাট সাজানো কয়েকটি মসজিদে নামাজ পড়লাম। ১০/১১ দিনে টরেন্টোর প্রায় সবটাই দেখে নিলাম। দেখে নিলাম কানাডার সর্বাধুনিক জীবনযাত্রা, সভ্যতার চূড়ান্ত মানবিক রূপ।

গিয়েছিলাম তমাল, আমার বড় ভাইয়ের ছেলে, আমার অনেক আদরের সন্তানসম তমালের কানাডার নোভা স্কোশিয়ার হ্যালিফ্যাক্সসহ আশেপাশের শহরগুলোতে। চারদিকে আটলান্টিক মহাসাগর ঘেরা এই শহরটি কানাডার ব্রিটিশ-স্কটিশ অকুপায়েড দ্বীপ শহর।

নোভা স্কোশিয়া সেই রকম সুন্দর একটা শহর, ইউরোপীয় ধাঁচের। উঁচু-নিচু ঢালে পরিকল্পিত রাস্তা, পার্ক, গোটা কয়েক বিশ্বমানের ইউনিভার্সিটি, আর চার পাশে মহাসাগর আটলান্টিকের পাড়ে গড়ে ওঠা একাধিক সমুদ্রবন্দর। শহর থেকে অনেক দূরে মহাসাগরের তীরে পেগিস কোভ শহরের তীর ঘেঁষে যুগযুগ ধরে দাঁড়িয়ে থাকা লাইটহাউস আর তীরে আছড়ে পড়া মহাসামুদ্রিক ঢেউ বিমোহিত করেছে আমাকে, করবে যে কাউকে। সে এক অপরূপ সৌন্দর্যের নৈসর্গিক দৃশ্য।

এমন লাইটহাউস আগে বহুবার পৃথিবীর বহু প্রান্তে দেখেছি, আর সেই সব হাজার বছরের নাবিকদের কথা ভাবি, যারা মাসের পর মাস ভেসে বেড়ায় কূল-কিনারাহীন জলরাশির ভয়াল জীবনে, যাদের কাছে বাতিঘর মানে জীবনের কাছে আসা…। কানাডা ভ্রমণকালের সাহচর্য দেওয়া, আতিথেয়তা দেওয়া সবাইকে অন্তরের অন্তরস্থল থেকে শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জানাচ্ছি।

একসময় ফিরতে হয় লসএঞ্জেলসে, টেক্সাসে। ছেলের কাছে, নাতনি-বউমা, মেয়ের কাছে। এখন এটাই আমার ঠিকানা, এটাই আমার গন্তব্য। জানি, আমাদের দুরতম দ্বীপে বাতিঘর হয়ে নিত্য আছে আরও একজন….

লেখক : গদ্যশিল্পী।
(লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)

৩৫৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
ফেবু লিখন নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন