ওসমান হাদির মৃত্যুতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ-ভাঙচুর, অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ
শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৬:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত থেকে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
রাজশাহীতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী গভীর রাতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগরে প্রবেশ করেন। একই সময় এনসিপির নেতাকর্মীরাও পৃথকভাবে মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় অবস্থিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজশাহী মহানগর কার্যালয়ে গিয়ে একটি এস্কেভেটর দিয়ে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।
বান্দরবানেও হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১টার দিকে শহরের রাজারমাঠ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের বাসভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নেভানো সম্ভব হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে গাজীপুরের টঙ্গীর কলেজগেট এলাকায় রাত ১১টার দিকে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এতে উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধকারীরা হাদির মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
চট্টগ্রামেও একাধিক স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নগরের খুলশী এলাকায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে একদল তরুণ অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী স্লোগান দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। একই রাতে ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে বিক্ষুব্ধরা শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের চশমা হিলের বাসভবনে হামলা চালায়। সেখানে মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয় এবং ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
বরিশালেও হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা বরিশাল–ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত চৌমাথা এলাকায় চলা এ অবরোধে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সারা দেশে চলমান এসব বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
২০৬ বার পড়া হয়েছে
