চাঁদাবাজির দাপটে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত, পুলিশ পাহারায় নির্মাণ সম্পন্ন
বৃহস্পতিবার , ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরায় বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবি, ঠিকাদার ও কাজ বাস্তবায়নকারীদের হুমকি এবং তথাকথিত মালামাল দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের কারণে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঠিকাদারদের দাবি, জেলার প্রায় সব উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নীরব চাঁদাবাজির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে কোথাও কোথাও পুলিশ পাহারায় উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে, যা জেলার স্বাভাবিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।
এরই অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বদ্ধিপুর কলোনি এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ছয়ানী এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহিদ হাসান হামলা ও লাঞ্ছনার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় দুর্বৃত্তরা নির্মাণাধীন সড়কটি সাবল দিয়ে খুঁড়ে ফেলে এবং কাজ বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে ঠিকাদারের আবেদনের পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় পুলিশ পাহারায় কাজটি শেষ করা হয়। বুধবার সকালে পুরাতন সাতক্ষীরা সওজ থেকে গোবিন্দপুর বাজার ভায়া জেয়ালা সড়কের কার্পেটিং কাজ পুলিশ পাহারায় সম্পন্ন করা হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল এক কোটি ১২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩ টাকা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহিদ হাসান বলেন, 'আমরা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করি। আমাদের কাজে বাধা দেওয়া মানে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা। সাতক্ষীরায় কাজ করতে গেলেই নীরব চাঁদাবাজির মুখে পড়তে হচ্ছে। টাকা না দেওয়ায় আমার কাজে হামলা চালানো হয়েছে, এমনকি রাস্তা খুঁড়ে দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পাহারায় কাজ শেষ করতে হয়েছে।'
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী জানান, কার্পেটিং কাজ চলাকালে স্থানীয় কিছু বখাটে ঠিকাদারের কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নির্মিত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের লোকজনকে হুমকি দেয়। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় পুলিশ মোতায়েন করে কাজ শেষ করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি জানার পর পুলিশ পাঠানো হয়। একজন উপ-পরিদর্শক ও দুইজন কনস্টেবল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়।
এদিকে, উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও সচেতন মহল।
৩১৪ বার পড়া হয়েছে
