সামনে বড় ভূমিকম্পের আভাস: ঢাকা ঘিরেই বিপদের আশঙ্কা
রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১:০৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর শনিবার সকাল ও সন্ধ্যায় আরও তিনটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায়। প্রায় ৩২ ঘণ্টার ব্যবধানে চারবার ভূমিকম্প হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ছে।
স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এগুলো বড় ভূমিকম্পের ‘আফটার শক’ হতে পারে। তারা মনে করছেন, ঢাকার অবস্থান সাবডাকশন জোনের কাছাকাছি থাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ভূমিকম্পগুলো সাধারণত এই জোনের আশপাশে ঘটে থাকে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ভবন নির্মাণে সহনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি, বাড়ির সামনে প্রশস্ত রাস্তা থাকা আবশ্যক। এছাড়া নিয়মবহির্ভূত ভবন দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০:৩৬ মিনিটে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা থেকে ৩.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এরপর সন্ধ্যায় ঢাকার বাড্ডায় দুটি ভূমিকম্প হয়—প্রথমটি ৩.৭ এবং দ্বিতীয়টি ৪.৩ মাত্রায়। এ ধরনের ছোট ভূমিকম্পগুলো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান প্লেট তলিয়ে যাচ্ছে বার্মিজ সাবপ্লেটের নিচে, যা সাবডাকশন জোন বলে পরিচিত। এই জোনের কাছাকাছি থাকা ঢাকাসহ কয়েকটি শহর বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া জানান, সাবডাকশন জোনটি সিলেট থেকে শুরু হয়ে জাভা সুমাত্রা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই জোনটি ঢাকার খুব কাছে থাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলো বড় ভূমিকম্পের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে শনিবার সকালে নরসিংদী ও সন্ধ্যায় ঢাকায় হওয়া ভূমিকম্পগুলো ‘ফোরশক’ বা পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন তিনি। তিনি আরও বলছেন, যদি আরও কিছু ছোট ভূমিকম্প হয়, তাহলে বড় আকারের ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়বে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই ধরনের ছোট ভূমিকম্প মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, এসব ভূমিকম্প আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং স্থানীয় জনমনে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা জাগায়। তিনি বলছেন, বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে, তবে মূলত এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ফল্টের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত দ্রুত এই ঝুঁকির মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
৬৬১ বার পড়া হয়েছে
