সর্বশেষ

জাতীয়১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘জনগণের দিন’, তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনী পোস্টার ছাপানো বন্ধে ছাপাখানাগুলোকে নির্দেশনা ইসির
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ালো
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেব : জামায়াত আমির
টাইম ম্যাগাজিনকে সাক্ষাৎকার: কোনো দল নিষিদ্ধের পক্ষে নন তারেক রহমান
১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে আজ
স্বর্ণের দামে রেকর্ড, ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার
সারাদেশবেনাপোল বন্দর: এক দিনে ১৫১৩ জন পাসপোর্টধারী পারাপার, ৩৫০ ট্রাক বাণিজ্য
শৈলকুপায় জমি বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০
ফেনীতে মুক্তিপণ না পেয়ে স্কুলছাত্র নাশিত হত্যা: ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড
দীর্ঘ বিরতির পর সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি পুনরায় শুরু
গোপালগঞ্জে জেলা ও দায়রা জজের বাসভবনে ককটেল হামলা
২০ বছর পর নওগাঁয় আসছেন তারেক রহমান, ব্যাপক প্রস্তুতি
কুয়াকাটায় ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও পুনর্বাসনের ঘোষণা বিএনপি প্রার্থীর
চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু
গাইবান্ধায় গণভোট উপলক্ষে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত
শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার বিতরণ মঞ্চে সংঘর্ষ, জামায়াত নেতা নিহত
আন্তর্জাতিকইরানমুখী আরও মার্কিন নৌবহর, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
খেলাভারত ছাড়াই ২০২৭ সালে পাকিস্তানে দক্ষিণ এশিয়ান গেমস আয়োজনের সিদ্ধান্ত
সারাদেশ

কুয়াকাটার বনাঞ্চল ধ্বংসের পথে, হুমকিতে উপকূলের লাখো মানুষ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ২:৪৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুয়াকাটার লেম্বুরবন, গঙ্গামতি, চর গঙ্গামতি, ইকোপার্ক, নারিকেল বাগান ও ঝাউবন—নামেই এখন পরিচিত এই বনাঞ্চল।

বাস্তবে এসব বনভূমি আজ ধ্বংসের মুখে। একদিকে সমুদ্রের ভাঙন, অন্যদিকে গাছ কেটে বন উজাড়—দুইয়ের চাপে বিপন্ন হয়ে পড়েছে উপকূলীয় পরিবেশ এবং ঝুঁকিতে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রভাবশালীদের লাগামহীন গাছকাটা ও বন বিভাগের নীরবতা বন ধ্বংসের মূল কারণ। অভিযোগ রয়েছে, বনকর্মীদের মদদেই দিনে-দুপুরে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। বন বিভাগ অবশ্য বলছে, লোকবল সংকট ও নিরাপত্তার অভাবের কারণে তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

সম্প্রতি গঙ্গামতি ও চর-গঙ্গামতি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শত শত ঝাউগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গাছের গোড়া ফেলে রেখে কাণ্ড ও ডালপালা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় এক জেলে বলেন,

“আমরা গাছ কাটি না, ডালপালা কেটে জালের খুঁটা বানাই। ফরেস্টার জাকির স্যার ডাল কাটতে বলেছেন, গাছ কাটতে বলেননি।”
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, কেবল ডালপালা নয়, মূল গাছও কেটে নেওয়া হয়েছে।


৪ সেপ্টেম্বর গঙ্গামতির লেকের পাড় থেকে প্রায় ৫০টি ঝাউগাছ কেটে জালে খুঁটি তৈরির জন্য ট্রলারে তুলে নিতে দেখা যায় ৯ জন জেলেকে। স্থানীয়রা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে অবৈধ বেহুন্দী জাল বসাতে এসব গাছ কেটে খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে জেলেরা।

এক সময় যেখানে আকাশমণি, রেইনট্রি, কেওড়া, সুন্দরীসহ নানা প্রজাতির গাছ দেখা যেত, সেখানে এখন শুধুই ঝাউগাছের ভগ্নাবশেষ। বন উজাড় হওয়ায় ভাঙন ঠেকাতে পারছে না উপকূল।

হোসেন পাড়ার বাসিন্দা মো. আ. মোতালেব (৫৫) বলেন, “এই বনই ছিল উপকূলের ঢাল। সিডর, আইলা, নার্গিসের মতো ঘূর্ণিঝড়েও আমাদের রক্ষা করেছে। এখন বন নেই বললেই চলে, ফলে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকছে। বড় দুর্যোগ এলে হয়তো আর বাঁচতে পারব না।” মাটিকাটা ও দুর্নীতির অভিযোগ সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ মুসল্লীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো. হযরত আলী বলেন, “মহিপুর রেঞ্জের সাবেক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বনের গাছ কাটার পাশাপাশি মাটিও বিক্রি করেছেন। কোটি টাকা কামিয়েছেন তিনি।”

 

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, “আমি ১৪টি মামলা করেছি, ১০টি মাটিকাটা ট্রাক জব্দ করেছি। চারজনকে জেলে পাঠিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মিথ্যা।”

 

বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান জানান, “আমি মাত্র ২ মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। দুর্বৃত্তরা আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গাছ কাটছে। আমরা মামলা দিয়েছি, কিন্তু লোকবল ও নিরাপত্তার অভাবে অভিযান পরিচালনায় বাধা আসে।” তিনি আরও জানান, গাছ কাটার সময় বন কর্মীদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকিও পেতে হয়।

২০০৫ সালে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কুয়াকাটা ইকোপার্ক ২০১০ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা পায়। কিন্তু এখন সেটিও প্রায় নিশ্চিহ্ন। সমুদ্র ভাঙনের পাশাপাশি বন উজাড় করায় পার্কের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে দ্রুত।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, “এই সংরক্ষিত বন শুধু গাছ নয়, উপকূলের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করত। বন ধ্বংস মানে মানুষের জীবন হুমকিতে পড়া। সরকারকে এখনই বনখেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান মিঞার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

২৩৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন